Bholai 50 hajar jele (In eng.50 thousand fishermen haven’t got VGF rice...

Bholai 50 hajar jele (In eng.50 thousand fishermen haven’t got VGF rice in Bhola)

0 466

প্রায় দুই মাস চলে গেলেও ভোলার প্রায় ৫০ হাজার জেলে এখনো বিশেষ ভিজিএফের চাল পাননি। বেশির ভাগ ইউপি চেয়ারম্যান বলছেন, সপ্তাহ খানেক আগে তাঁরা সুবিধাভোগীদের তালিকা তৈরির নির্দেশনা পেয়েছেন। তাই এত অল্প সময়ে তালিকা তৈরি করা সম্ভব হয়নি।
আর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা (ইউএনও) বলছেন, গত মাসের শেষের দিকে মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা পাওয়ার পর পরই তাঁরা তালিকা তৈরির নির্দেশনা ইউপি চেয়ারম্যানদের দিয়েছেন।
জেলা মত্স্য কর্মকর্তা প্রীতিশ কুমার মল্লিক বলেন, ইলিশ-জাটকাসহ অন্যান্য মাছের পোনা রক্ষার জন্য ভোলার ১৯০ কিলোমিটার নদীতে (মেঘনা-তেঁতুলিয়া) দুই মাস (মার্চ-এপ্রিল) জাল ফেলা নিষিদ্ধ। এতে জেলার সাতটি উপজেলার ৮৯ হাজার জেলে বেকার হয়ে পড়েছেন। মত্স্য সম্পদ অধিদপ্তর জেলার ৪৭ হাজার ৪৩৯ জন জেলের পরিবারকে ভিজিএফের মাধ্যমে প্রতি মাসে ৩০ কেজি করে চার মাসে (ফেব্রুয়ারি-মে) ১২০ কেজি চাল দেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছে।
জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক সুবোধ কুমার হাওলাদার বলেন, ‘জেলেদের চাল দেওয়ার মন্ত্রণালয়ের চিঠিটি আমাদের হাতে ২০ ফেব্রুয়ারি পৌঁছেছে। এরপর জেলেদের ওই চাল বিতরণের ব্যবস্থা নিতে উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছি। কিন্তু ইউএনওদের ডিও লেটার (ছাড়পত্র নির্দেশ) না পাওয়ায় চাল সরবরাহ করা সম্ভব হয়নি।’
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন খাদ্য কর্মকর্তা বলেন, কয়েক মাসের চাল একত্র হলে চেয়ারম্যানদের চাল বাইরে বিক্রি করতে সুবিধা হয়। এ জন্য চেয়ারম্যানেরা ইচ্ছে করে বিলম্ব করছেন।
তজুমদ্দিন স্লুইসগেট মাছঘাটের রফিকুল ইসলাম, আবদুল গণি মাঝি, লালমোহন বাত্তির খালের আমির হোসেন মাঝি, বোরহান উদ্দিনের গঙ্গাপুরের বাকের মাঝি, সদর উপজেলার রাজাপুর চডারমাথা মাছঘাটের ইয়াছিন মাঝিসহ অনেক জেলে বলেন, বেশির ভাগ জেলেই বর্তমানে বেকার। তাঁদের চাল দেওয়ার কথা থাকলেও চেয়ারম্যান-মেম্বাররা এখনো চাল দেননি।
সদর উপজেলার রাজাপুর ইউপির চেয়ারম্যান রেজাউল হক বলেন, তাঁকে উপজেলা পরিষদ থেকে সপ্তাহ খানেক আগে তালিকা দিতে বলা হয়েছে। তাঁর ইউনিয়নে নিবন্ধিত জেলের সংখ্যা চার হাজারের বেশি। এরা ত্রাণ পাওয়ার উপযুক্ত। এর মধ্যে দুই হাজার ২৬১ জনকে বাছাই করতে হবে। সরকারের উচিত ছিল তালিকা তৈরির জন্য ডিসেম্বর থেকে কাজ শুরু করা। তাহলে ফেব্রুয়ারির প্রথম দিকে জেলেদের ঘরে চাল পৌঁছে দেওয়া সম্ভব ছিল।
দৌলতখান উপজেলার চরপাতা ইউপির চেয়ারম্যান নাজিম উদ্দিন হাওলাদার, তজুমদ্দিন উপজেলার চাঁদপুর ইউপির চেয়ারম্যান ফখরুল আলম, চরফ্যাশনের কুকরি-মুকরি ইউপির চেয়ারম্যান হাশেম মহাজনসহ বেশির ভাগ ইউপির চেয়ারম্যানেরা একই রকম বক্তব্য দিয়েছেন।
বোরহানউদ্দিন উপজেলার সাচড়া ইউপির চেয়ারম্যান মহিবুল্যাহ মিয়া বলেন, তাঁরা তালিকা করার ব্যাপারে উপজেলা পরিষদের কাছ থেকে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা না পাওয়ায় তালিকা করতে পারেননি।
লালমোহনের ইউএনও জাকির হোসেন ও উপজেলার লর্ডহার্ডিঞ্জ ইউপির চেয়ারম্যান আবুল কাশেম বলেন, জেলেদের তালিকা তৈরি হয়েছে এবং চাল তোলার ছাড়পত্রও পাওয়া গেছে। ২২-২৩ মার্চ সাংসদ নুরুন্নবী চৌধুরী আসবেন। তিনি এসে চাল বিতরণের উদ্বোধন করবেন। অন্য ইউএনওরা বলেন, চেয়ারম্যানেরা জেলেদের তালিকা দিতে বিলম্ব হওয়ায় ভিজিএফের চালের ছাড়পত্র দেওয়া যাচ্ছে না।
জেলা প্রশাসক খোন্দকার মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘আমরা ফেরুয়ারিতে চাল দেওয়ার জন্যই চেয়ারম্যানদের তালিকা দিতে বলেছি। চেয়ারম্যানরা তালিকা দিতে বিলম্ব করায় জেলেরা চাল পাচ্ছে না।’

Source:Prothom-alo:http://www.prothom-alo.com/detail/date/2013-03-20/news/337941

NO COMMENTS

Leave a Reply