Kitnasok ar upor nirvorata (In eng. our agriculture increase dependency on insecticide)...

Kitnasok ar upor nirvorata (In eng. our agriculture increase dependency on insecticide) Bangla News

0 576

পরিবেশ
কীটনাশকের ওপর নির্ভরতা বাড়ছে
ইউরোপীয় ইউনিয়ন আগামী জুলাই নাগাদ মেৌমাছির জন্য ক্ষতিকর হিসেবে চিহ্নিত কীটনাশক ফসলি জমির কীটপতঙ্গ দমনে ব্যবহার নিষদ্ধি করতে যাচ্ছে। সূর্যমুখী, সরিষা, ভুট্টাসহ যেসব ফসলের ফুল মেৌমাছি আকর্ষণ করে, সেসব ফসলের জমিতে ব্যবহার করা কীটনাশক মেৌমাছির সংখ্যা আশঙ্কাজনক হ্রাসের জন্য দায়ী। গত বছরের মার্চে পরিচালিত গবেষণায় নিশ্চিত প্রমাণ পাওয়ার পর এ বছরের জানুয়ারিতে ইউরোপীয় খাদ্যনিরাপত্তা কতর্ৃপক্ষ বিশ্বে ব্যাপকভাবে ব্যবহূত তিন ধরনের কীটনাশক ফুলের মধু খাওয়া মেৌমাছির জন্য Èঅগ্রহণযোগ্য মাত্রায় বিপজ্জনক’ ঘোষণা করে। নিষদ্ধি হলে খ্যাতনামা তিনটি বহুজাতিক ও কীটনাশক উৎপাদনকারী কোম্পানির ওই কীটনাশক ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত ২৫টি দেশে ব্যবহার আপাতত বন্ধ থাকবে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের অধিকাংশ সদস্যরাষ্ট্র অনুমোদন দিলে ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৩ প্রস্তাবটি আইন হিসেবে অন্তভর্ুক্ত হবে। জার্মানি ও যুক্তরাষ্ট্র এমন নিষেধাজ্ঞার প্রশ্নে দ্বিধাগ্রস্ত হলেও ব্রাসেলসে ২২ লাখ মানুষ গণস্বাক্ষর দিয়ে মেৌমাছির জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর কীটনাশক নিষিদ্ধের দাবি জানিয়েছে। মেৌমাছি ফুলের পরাগায়নের মাধ্যমে ফসল উৎপাদনে যে প্রয়োজনীয় সহায়তা করে, কীটনাশক উৎপাদন ও বিপণন ব্যবসায় জড়িত কোম্পানির মুনাফার স্বার্থে তাকে ধ্বংস করতে দেওয়া চলে না। ইউরোপের অনেকের মতো পূর্ব ইংল্যান্ডের গ্রিন পার্টির কিথ টেইলর তাই সনে্তাষের সঙ্গে এ প্রস্তাব সমর্থন করেছেন।
পৃথিবীজুড়ে কীটনাশকের ব্যবহার এবং এর মারাত্মক পরিবেশগত বিপর্যয় নিয়ে মানুষ শঙ্কিত। এ নিয়ে ১৯৬২ সালের সেপ্টেম্বরে প্রকাশিত রাচেল কারসনের Èসাইলেন্ট স্প্রিং’ মার্কিন মুলুকে যে হইচই ফেলেছিল, পরবর্তীকালে বিশ্বজুড়ে পরিবেশ আন্দোলনকে তা কেবল আলোড়িত করেনি; বরং আধুনিক পরিবেশ আন্দোলনের গতিমুখও ঘুরিয়ে দিয়েছে। রাচেল কারসেন তথ্য ও বিশে্লষণে মূলত দেখিয়েছেন, পাখিদের ওপর ডিডিটিসহ ক্ষতিকর কীটনাশকের মারাত্মক প্রভাব কতটা বিস্তৃত ও বিধ্বংসী হতে পারে। অনিয়নি্ত্রত কীটনাশকের ব্যবহার কেবল পশুপাখি নয়, মানুষের জন্যও যে মারাত্মক বিপর্যয়ের কারণ হয়, তা এখন প্রমাণিত। রাচেল কারসনের Èসাইলেন্ট স্প্রিং’ ১৯৭০ সালে যুক্তরাষ্ট্রে ডিডিটি নিষদ্ধি করার পটভূমি রচনা করেছিল। কৃষিতে কীটপতঙ্গ দমন ও মশাসহ জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকি সৃষ্টিকারী বিভিন্ন কীটপতঙ্গ দমনে ব্যবহূত হলেও ডিডিটি বিশ্বজুড়ে সেই ধারাবাহিকতায় প্রায় নিষদ্ধি। মারাত্মক ক্ষতিকর রাসায়নিক নিষদ্ধি করে Èস্টকহোম কনভেনশন’ প্রণীত হয়েছে এবং বিশ্বের অধিকাংশ দেশ তাতে স্বাক্ষর করেছে।
বিরোধীরা অবশ্য কীটনাশক নিষদ্ধি করার বিপদ সম্পর্কে সতর্ক করছেন। রাচেল কারসেনের সমালোচকদের দৃষ্টিতে তঁার লেখায় তথ্যের চেয়ে আবেগ বেশি। পরিবেশ ও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের বরাতে ১৮ নভেম্বর ২০১২ লন্ডনের অবজারভার পত্রিকা লিখেছে, শক্তিশালী কীটনাশক নিষদ্ধি করলে যুক্তরাজ্যে ইঁদুরের ব্যাপক বিস্তৃতি ঘটবে। বৈশ্বিক উষ্ঞায়নের পটভূমিতে পৃথিবীজুড়ে আবার প্রাণঘাতী ম্যালেরিয়া ছড়িয়ে পড়ার বিপদ দেখা দেওয়ায় মশা দমনে ডিডিটি ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তার কথা আলোচনায় ফিরে এসেছে। ১৯৩০-এর দশকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ৪০ লাখ মানুষ ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত হয়েছিল। দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের পর যুক্তরাষ্ট্রসহ পৃথিবীজুড়ে ম্যালেরিয়ার বাহক মশা দমনে জমে থাকা জল ও বদ্ধ জলাশয়ে ডিডিটি ছিটিয়ে কার্যকরভাবে ম্যালেরিয়া দমন করা হয়। ভারতে ১৯৫০ সালে ম্যালেরিয়ার আক্রমণে বছরে প্রায় আট লাখ মানুষের মৃতু্য হয়; ডিডিটি ব্যবহার করে ১৯৬০ সালে এ সংখ্যা প্রায় শূন্যে নামিয়ে আনা সম্ভব হয়েছিল। এখনো ভারত, চীন ও মেক্সিকোতে মশা দমনে ডিডিটি ব্যবহূত হয় এবং ভারত ও চীন ডিডিটি উৎপাদন করে। ২০০৪ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার নডুমো শহরে ব্যাপকভাবে ম্যালেরিয়া ছড়িয়ে পড়লে বাড়ি বাড়ি ডিডিটি ছিটিয়ে তা নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। ডিডিটি মশার বিরুদ্ধে প্রমাণিত প্রতিষেধক এবং তা সস্তা। একটি বাড়ি ও তার চেৌহদ্দিতে মশা দমনে ডিডিটি ব্যবহারে ব্যয় হয় প্রায় ১ দশমিক ৬ থেকে ৮ ডলার, কিন্তু এর বিকল্প প্রতিষেধক ব্যবহার করলে ব্যয় হয় প্রায় ৪ দশমিক ২ থেকে ২৪ ডলার। ২০০৬ সালে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা উন্নয়নশীল দেশ, বিশেষত আফ্রিকার সাব-সাহারা অঞ্চলে ম্যালেরিয়া দমনে সস্তা কিন্তু কার্যকর প্রতিষেধক হিসেবে ডিডিটি ব্যবহারের আহ্বান জানিয়েছে।
বিশ্বজুড়ে কীটনাশকের ক্ষতিকর প্রভাব প্রবল আলোড়ন তোলার পটভূমিতে জিন প্রযুক্তি কাজে লাগিয়ে জীবাণুর আক্রমণ প্রতিরোধক্ষমতাসম্পন্ন ফসল উদ্ভাবনে ব্যাপক উৎসাহের সৃষ্টি হয়। মনসান্টোর মতো বড় বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান কৃষকের জন্য কীটনাশক ব্যবহারের Èঝামেলামুক্ত’ অর্থকরী ফসলের বীজ উদ্ভাবন এবং তা বাজারজাতে ব্যাপক উদ্যোগও নেয়। কিন্তু সম্প্রতি প্রকাশিত গবেষণা প্রতিবেদনে মনসান্টোর দাবির যথার্থতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। গবেষক ও ওয়াশিংটন স্টেট ইউনিভার্সিটির সেন্টার ফর সাসটেইনিং অ্যাগ্রিকালচার অ্যান্ড ন্যাচারাল রিসোর্স সেন্টারের অধ্যাপক চাক বেনব্রুক এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্সেস ইউরোপ জার্নালে প্রকাশিত প্রবন্ধে মনসান্টোর দাবি করা সয়া, ভুট্টা ও তুলা উৎপাদনের জন্য বর্ধিত পরিমাণে বিষাক্ত আগাছানাশক ব্যবহারের প্রমাণ তুলে ধরেছেন। এ পটভূমিতে কীটপতঙ্গ ও আগাছা দমনে বিষাক্ত রাসায়নিক ও কীটনাশকের ব্যবহার ভবিষ্যতে বাড়তে পারে বলে লন্ডনের গার্ডিয়ান পত্রিকায় ৩ অক্টোবর ২০১২ প্রকাশিত এক নিবন্ধে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।
কিছুদিন আগে বাংলাদেশে বিশ্বব্যাংকের পরিচালিত এক গবেষণা প্রতিবেদনের তথ্যানুযায়ী ধান, আলু, বেগুন, পাতাকপি, আখ ও আমচাষিদের প্রায় ৪৭ শতাংশ প্রয়োজনের তুলনায় বেশি মাত্রায় কীটনাশক ব্যবহার করে। মাত্র ৪ শতাংশ কৃষক বিষাক্ত কীটনাশক ব্যবহারের জন্য আনুষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ পেলেও ৮৭ শতাংশ কৃষক কীটনাশক ছিটানোর সময় কোনো প্রতিরোধব্যবস্থা নেন না বলে স্বীকার করেছেন। ফলে কৃষকের স্বাস্থ্য ও পরিবেশ∏উভয়ই প্রতিনিয়ত বাড়তি ঝুঁকির মুখোমুখি হচ্ছে। অবশ্য লন্ডন থেকে প্রকাশিত ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৩-এর অবজারভার পত্রিকার নিবন্ধের দাবি অনুযায়ী, ভারতের বিহারের নালন্দা জেলার দরবেশপুর গ্রামের কৃষকেরা স্বল্প পরিমাণ বীজ, পানি, রাসায়নিক ও কীটনাশক ব্যবহার করে একরপ্রতি ২২ দশমিক ৪ টন ধান উৎপাদনের যে বিশ্বরেকর্ড গড়েছেন, তাতে আমরা আশায় বুক বঁাধতেই পারি।
ড. মুশফিকুর রহমান: খনি প্রকেৌশলী। জ্বালানি ও পরিবেশবিষয়ক লেখক।

source:http://www.prothom-alo.com/detail/date/2013-02-20/news/330460

NO COMMENTS

Leave a Reply